টেলিপ্যাথি কি? টেলিপ্যাথি কি সম্ভব?

টেলিপ্যাথির সহজ উত্তর হল ব্রেইন টু ব্রেইন ডাটা ট্রান্সফার। যেমনটা আমরা শেয়ার ইট এর মাধ্যমে করে থাকি। আপনারা যদি হলিউড এক্স ম্যান সিরিজের মুভিগুলা দেখে থাকেন তাহলে সেখানে প্রফেসর এক্স নামে একজনকে দেখবেন অন্য মানুষের মনের নিয়ন্ত্রন নিতে। মনের নিয়ন্ত্রণ নেয়াই টেলিপ্যাথি নয়। এটা টেলিপ্যাথির সামান্য একটা অংশ।

 

আনইউজুয়াল টেলিপ্যাথি প্রমানঃ ইচ্ছাকৃত টেলিপ্যাথির প্রমান আজ পর্যন্ত মেলেনি। ওটা প্রফেসর এক্স আর এক্স ম্যান সিরিজেই সীমাবদ্ধ। এই পর্যন্ত প্রায় কয়েক হাজারের উপর মানুষ আরেকজনের মনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে দাবি করেছেন।যদিও সরাসরি পরীক্ষায় কেউই পারেননি। কিন্তু দুই একটা উদাহরণ তবুও চমক লাগিয়ে দেয়।

 

সেপ্টেম্বর ৯,১৯৪৮ সালে মূলতান দখলের সময় সেখানকার ইনচার্জ সেনাপতি মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি মারা যাবেন জেনে তার হাতের রিংটা তিনি পাশের সেনাদের তার বউয়ের হাতে পৌছে দিতে বলেন। ঠিক তার ১৫০ কিলোমিটার দূরে ফিরোজপুরে তার বউ ঠিক ওইসময় একদম একই বিষয় স্বপ্নে দেখেন! তিনি স্বপ্নে দেখেন তার স্বামী বলছেন – “এই রিংটা নিয়ে যাও আর আমার বউকে দিয়ে দিও।” পরবর্তীতে এই কেস এসপি আর ভেরিফাই করে সত্যতা প্রমান পায়।

 

টুইন টেলিপ্যাথি প্রমানঃ বলা হয়ে থাকে দুটো যমজ বাচ্চাকে জন্মের পর থেকে যদি আলাদা করে দুইটা ভিন্ন দেশেও রাখা হয় তাহলে তাদের আচরণে অদ্ভুত কিছু মিল পাওয়া যায়। আপনি আবার ভরুন ধাওয়ানের জুডুয়া টু ফিল্মে যাইয়েননা। আমেরিকার জেমস আর্থার স্প্রিঙ্গার আর জেমস এডওয়ার্ড লুইস যমজ ছিলেন। জন্মের পরেই লুইসকে তার খালা ভিন্ন দেশে নিয়ে যান। ওদের কারো সাথে কারো বিন্দুমাত্র যোগাযোগ ছিলোনা। কিন্তু মারাত্মক কিছু অদ্ভুত আচরণ তাদের মধ্য প্রকাশ পায়। দুই পরিবারই তাদের নাম সংক্ষেপে জিম রাখে। দুইজনের সাথে কোন যোগাযোগ না থাকলেও তারা উভয়ই ‘ল’  ইনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং করে, দুজনেই চিত্রাঙ্কনে খুব ভাল ছিল, দুজনেই লিন্ডা নামের দুই মেয়েকে বিয়ে করেন, দুজনেই তাদের সন্তানের নাম রাখেন এলান, তারা দুইজনই তাদের বউদের ডিভোর্স দেন এবং পরবর্তীতে বেটি নামে অন্য দুজনকে বিয়ে করেন, দুজনেরই কুকুরের নাম টয় রাখেন। তারপর ৩৯ বছর পর ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ তে তারা প্রথমবারের মত নিজেদের কথা জানতে পারেন এবং দেখা করেন! হোয়াদ্দাপাক ওয়াজ দ্যাট!

 

কোয়ান্টাম সাইন্সে টেলিপ্যাথি পসিবল। বিজ্ঞান অলরেডি ব্রেইন টু ব্রেইন মেসেজ পাঠাইছে তাও ইন্ডিয়া থেকে ফ্রান্সে সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে। হার্ভার্ড ইউনির গবেষকরা বিশ্বাস করেন কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরেও ব্রেইন মেসেজ পাঠানো সম্ভব! কিন্তু ইন্ডিয়া টু ফ্রান্সে মাত্র দুইটা শব্দ পাঠানো হইছিলো তাও ৯০ সেকেন্ড লাগছে।

 

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের হিসেব অনেক জটিল তাই বাকিটা আর লিখলাম না। যাইহোক অদূর ভবিষ্যৎ এ টেলিপ্যাথি পূর্ন রুপ পেলে আমরা উপকারী আর অপকারী দুটা দিকই পাবো।

 

লিখেছেনঃ Yeasin Raihan

Abu Hasan Rumi
আমি আবু হাসান রুমি এবং আমি একজন টপ রেটেড এডমিন সাপোরটার এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটার যে প্রতিনিয়তই তার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টায় আছে। আমার সকল চিন্তা-ভাবনা এবং আগ্রহকে সকলের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ ব্লগটি চালু করা।
Posts created 13

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top