বিজ্ঞানকে তো আমরা সবাই ভালোবাসি। তাই না? প্রতিনিয়তই আমরা নানা ভাবে বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত বিভিন্ন পদ্ধতি অর্থাৎ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে চলেছি। আর একারনেই প্রায় সব সময়ই আমাদের মাথায় নানা বিজ্ঞান বিষয়ক প্রশ্ন আসে যার উত্তর আমরা জানি না বা কোথাও খুজে পাই না। আমারও এর ব্যতিক্রম হয় না। প্রতিদিনই অসংখ্য প্রশ্ন আমার মাথায় আসে আর সাথে সাথেই আমি সেসব প্রশ্নের উত্তর খুজে বের করতে চেষ্টা করি। আমার মাথায় আসা সেসব প্রশ্ন এবং সেসব প্রশ্নের খুজে বের করা উত্তর নিয়েই এ পেজ। প্রশ্নের উপর ক্লিক করলেই উত্তর আপনার সামনে চলে আসবে।

 

তাহলে শুরু করা যাকঃ

 

রিমোট কীভাবে কাজ করে?

রিমোট ইনফ্রারেড রে এর মাধ্যমে কাজ করে। রিমোটে ট্রান্সমিটার থাকে এবং টিভিতে রিসিভার থাকে। রিমোট থেকে সিগন্যাল সরাসরি টিভিতে যায়। সামনে কোনো প্রকার বাধা থাকলে রিমোট কাজ করবে না। কিন্তু বর্তমানে কিছু কিছু টিভিতে রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনেক দূর থেকেও রিমোট ব্যবহার করা সম্ভব।

মানুষের দুধ দাঁত পড়লে আবার দাঁত উঠে, কিন্তু এরপর দাঁত পড়লে আর উঠে না কেন ?

বয়স বৃদ্ধির কারনে শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস কমতে থাকে, যাতে হাড় ও দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গুলো সরবরাহের ঘাটতি দেখা যায় ফলে দাঁতসহ যে কোন অঙ্গেরহানী হলে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে না।

নবজাতক শিশুরা কী স্বপ্ন দেখতে পারে? আর সেটা সম্ভাব্য কেমন স্বপ্ন হতে পারে?

নবজাতক শিশুরা সপ্ন দেখে কী না, তা এখনো বৈজ্ঞানিক ভাবে যথেষ্ট যুক্তি সহকারে প্রমান করা সম্ভব হয়নি। কারন জন্মের ১ বছর এর আগে পর্যন্ত তারা তাদের সম্পূর্ণ দৃষ্টি শক্তি পায় না। অর্থাৎ পরিস্কার ভাবে দেখতে পায় না। আর মানুষ দেখতে না পেলে সপ্নও দেখে না। তবে ইসলামিক ভাবে বলা আছে যে নবজাতকেরাও সপ্ন দেখে।

শিলা বৃষ্টির শিল বা শিলা কি? কীভাবে শিলা তৈরি হয়?

বৃষ্টি মূলত আকাশে থাকা বিশাল বড় আকারের মেঘের কণা। আকাশে মেঘ জমতে জমতে অনেক ভারী হয়ে গেলে যদি ওই মেঘ কে আকাশ ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন আকাশ থেকে মেঘের কণা গুলো আলাদা হয়ে ভুপৃষ্টের পতিত হয়। আর পতিত হওয়ার সময় মেঘের কণা গুলো একে অন্যের সাথে ঘর্ষণের ফলে কণা গুলো খুব ক্ষুদ্র আকার ধারন করে, যা ভূ-মন্ডলে বৃষ্টি আকারে আমরা দেখতে পাই। আর মেঘের কণা গুলো যখন অনেক বেশী আকারে আকাশ থেকে ঝরে তখন একে অন্যের সাথে অতি-ঘর্ষণের ফলে ঐ মেঘের কণা গুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে পারেনা কিংবা হওয়ার আগেই ভূ-মন্ডলে পতিত হয়। আর এই কারণেই বৃষ্টির সময় আকাশ থেকে বরফের টুকরা পড়ে।

শূন্যের যদি মান না থাকে, তাহলে শূন্য ঋণাত্মক সংখ্যা অপেক্ষায় বড় কেন?

পাটিগণিতে শুন্যের মান না থাকলেও বীজগণিতে আছে। মনে করুন আমার কাছে আমার বন্ধু "এক্স" ১০ টাকা পায়। অর্থাৎ আমার মান -১০ টাকা। কিন্তু আপনার কাছে কেউ টাকা পায় না, বা আপনি কাওকে টাকা ধারও দেননি। তাই আপনার মান ০। তাহলে বড়লোকটা কে হলো? নিশ্চয়ই আপনি। কোনো সন্দেহ আছে কি?

পুড়ে গেলে ফোসকা পরে কেন? সে ফোসকায় পানি থাকে কেন?

চামড়ার যে অংশ পুড়ে যায় সে অংশের টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। আর টিস্যু নষ্ট হয়ে গেলে শরীর সিদ্ধান্ত নেয় এটা রিপ্লেস করার। কিন্তু রিপ্লেস করতে হলে সেখানে নতুন চামড়া বানাতে হবে আর আগের নষ্ট চামড়া টা ফেলে দিতে হবে। এই কাজটি করে ফ্লুইড। আমরা যাকে ফোসকা বলি। ফোসকার ভিতরের পানি সে স্থানে এন্টিবডি নিয়ে আসে। এটাই ফোসকার ভিতরের পানির কাজ

শুনেছি আপেলের বীজ বিষাক্ত, কোনো ব্যক্তি যদি আপেলের বীজ খায় তবে সে কি মারা যাবে?

হ্যাঁ, আপেলের বীজে অ্যামিগাডলিন থাকে। যা আমাদের শরীরে উৎসেচকের সংস্পর্শে এসে সায়ানাইড উৎপন্ন করে। প্রতি কেজি আপেলের বীজে ৭০০ মিলিগ্রাম হাইড্রোজেন সায়ানাইড রয়েছে। অর্থাৎ, ২০০টি বীজ একজন মানুষ একসাথে খেলে তবেই মানুষ মারা যাবে।

বাদুড় কেনো মুখ দিয়ে মলত্যাগ করে?

এ ধারনা ভুল। এরা মানুষের মতই মুখ দিয়ে খায় আর পায়ু পথে মল ত্যাগ করে। অনেকে ধারনা করে বাদুড় উল্টা হয়ে ঝুলে মল ত্যাগ করে কিভাবে? তাই মুখ দিয়ে মল ত্যাগ করে। কিন্তু বাদুড় ওরার সময় ছাড়া কখনো মলত্যাগ করে না। আমরা মল ত্যাগ করার জন্য যেমন টয়লেটে যাই তেমনই বাদুড় মলত্যাগ করার জন্য উড়ে বাইরে যায়। কি ভদ্র তাই না!

শুনেছিলাম হাতির মল থেকে কফি তৈরি করা হয়, এটা কতটুকু সত্য?

আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কফি তৈরি হয় হাতির মল থেকে। হাতিকে পুরো কফিবিন খাওয়ানো হয়, কারন কফিবিনের খোসা হাতি বা মানুষ কেউই হজম করতে পারে না। তারপর উক্ত কফিবিন হাতির পরিপাকতন্ত্র অতিক্রম করে মল দিয়ে বের হওয়ার পর ঐ মল থেকে অক্ষত কফিবিন সংগ্রহ (খাওয়ার সময় যে বিনগুলো হাতির দাতে পরে চুর্ন হয় সেগুলো বাদে) করে প্রচলিত নিয়মে কফিবিন রোষ্ট করে ডাষ্ট করে প্রস্তুত করা হয়। আমরা যে সাধারণ কফি বিন গুলো পেয়ে থাকি এগুলো আসে কফি গাছ থেকে। গাছে কফি বেরি (ফল) তৈরি হয়। তারপর ওয়াশড অথবা ড্রাই প্রসেসিং এর মাধ্যমে প্রসেস করা হয়। অর্থাৎ বাজারে যেসব কফি পাওয়া যায় সেসব কফি হাতির মল থেকে তৈরি হয় না।

আনারস আর দুধ একসাথে খেলে কি মারা যাবো?

আনারস ও দুধ একসাথে খেলে কিছুই হয় না। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কোন না কোন খাবার অথবা কোন বিশেষ দুইটি খাবারের সংমিশ্রন সমন্ধে কুসংস্কার আছে। এদের কে বলা হয় “ফুড ট্যাবু”। এসব কুসংস্কার এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, কোন না কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এইসব “ফুড ট্যাবু” এর উদ্ভব হয়। আনারস ও দুধ একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া ঘটে- এটা সেরকম ই একটা “ফুড টাবু”। এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আরো বিস্তারিত ভাবে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন। 

তারা জ্বলজ্বল করে কেন? একবার নিভে আবার একবার জ্বলে?

খুব ইন্টারেস্টিং একটা প্রশ্ন। গ্রহ তাকেই বলে যার নিজস্ব আলো নেই বা বিকিরণ করেনা। আর যাদের নিজস্ব আলো আছে তাদের বলে নক্ষত্র। আপনি তারা হিসাবে যেসব দেখেন সেগুলো নক্ষত্র এবং সেগুলোর কোনটি সূর্যের থেকেও আকারে অনেক বড় এবং নিজস্ব আলো আছে। এই তারা গুলো পৃথিবি থেকে অনেক দূরে হওয়ায় তাদের আলোর ক্ষীণ অংশ পৃথীবিতে আসে। দিনের বেলা সূর্য থাকে বলে তারা দেখা যায় না। আর রাতে সুর্য না থাকায় সেগুলো দৃশ্যমান হয়। তবে তারাগুলো সবসময়ই জ্বলে। যে তারা অনেক জ্বলজ্বল করে অই তারা থেকে পৃথিবীর দুরত্ব কম, আর যেসব তারা খুব কম জ্বলে অইগুলা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে।

আমরা শরীরে সাবান ব্যবহার করলেও, ডিটারজেন্ট ব্যাবহার করি না কেন?

ডিটারজেন্টের ক্ষার সাবানের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, যা কাপড়ের দাগ, ময়লা তুলতে ব্যবহার হয়। এটা শরীরে ব্যবহার করলে ক্ষারের রিয়েকশনে ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে চামড়া উঠতে শুরু করবে। কারন ডিটারজেন্ট ত্বকে ব্যবহার উপযোগী করে বানানো হয়নি। ক্ষারের লবণ তৈরিতে যতবেশি শক্তিশালী লবণ ব্যবহার হয়, সে সাবান তত বেশি ক্ষারীয় হয়।

অনেকেই আঙ্গুল কেটে গেলে সাথে সাথে তা মুখে ঢুকিয়ে নেয় বা রক্ত চুষে নেয়। এখন যদি সেই রক্ত কোন অজানা ভাইরাস থাকে?

ভয় নেই। সেগুলো ডাইজশনে মারা যাবে এবং মলমুত্র ত্যাগের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। এমনকি যদি এইডস সংক্রমিত রক্তও পেটে যায়, পাকস্থালী সেগুলোকেও হজম করতে সক্ষম।

ঘুম কেন আসে?

মানব মস্তিষ্কে অবস্থিত 'নিল্‌স গ্র্যানিউলস' নামের এক প্রকারের রাসায়নিক পদার্থ মূলত ঘুম আসার পিছনে দায়ী। শারীরিক পরিশ্রম করলে দেহে ল্যাকটিক এসিড জমে। এর ফলে শরীরের পেশীগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে পেশী তার শক্তি হারায়। আবার, বিশ্রামের ফলে পেশীতে জমা এসিড কমে যায়, পেশী আবার কার্যক্ষম হওয়ার জন্য তৈরী হতে থাকে। লেখাপড়া, চিন্তা-ভাবনার মত মানসিক পরিশ্রমের ফলে 'নিল্‌স গ্র্যানিউলস' খরচ হয়। এমনি ভাবে খরচ হতে হতে যখন নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌছে, তখন আপনা-আপনিই স্টেম সেলের কেনিং সেন্টার বা 'জাগরনের কেন্দ্র'-টি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর এটা কাজ না করায় আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। আবার, পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কে 'নিল্‌স গ্র্যানিউলস' ফিরে আসে। এমনি করে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌছলে 'এ্যাওয়ে কেনিং সেন্টার' ইম্পালস পায়, মানে ক্রিয়াশীল হয়ে উঠে। ফলে, আমরা জেগে উঠি।

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top