রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন

প্রেক্ষাপট-১: ইফতি একজন ছাত্র। ক্লাসে মেধা তালিকায় অবস্থান তার বেশ উপরেই। কিন্তু তার একটা বদ-অভ্যাস আছে অল্পতেই রেগে যাওয়ার তার শরীর অন্যদের তুলনায় কিছুটা স্থুলকায় হওয়ায় প্রায় সময়ই সে সহপাঠিদের হাসি-তামাশার শিকার হয়। আর এতেই তার মেজাজ গরম হয়ে যায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আরম্ভ করে। একদিন এরকমই এক পরিস্থিতিতে ইফতি নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার এক সহপাঠির চোখ কলম দিয়ে গেলে দেয়! ২টি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পারতপক্ষে ইতি ঘটে সেখানেই।

 

প্রেক্ষাপট-২: জনাব আশিকুর রহমান একজন চাকুরিজীবী। কর্মক্ষেত্রে তার পদ এবং বেতন ২টিই সম্মানজনক পর্যায়ের। কিন্তু সামাজিক ও মানসিক বিচারে তার আচার-আচরন অত্যন্ত নিম্নমানের। নিজের মতের সাথে কারো কথার মিল না থাকলেই তিনি পশুর মতো আচরন শুরু করেন। তার এই পাশবিক আচরন থেকে রেহাই পায় না বাড়ির কাজের লোক, রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে অফিসের কর্মচারীরাও। একদিন অফিসের পিয়ন আশিক সাহেবের মোবাইল হাত থেকে ফেলে দেওয়ায় তিনি প্রচন্ড রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে নিরীহ লোকটির মাথা সর্বশক্তিতে দেওয়ালে ঠুকে দেন আর তাকে পৌছে দেন জীবন মৃত্যুর সন্ধি-ক্ষনে! এর পরিণতি তার জন্য মোটেও ভাল হয় নি। চাকরি খোয়ানো ছাড়াও তাকে জরিমানা সহ জেলের ঘানি পর্যন্ত টানতে হয়েছে।

 

এই ২ টি ঘটনার মতো অসংখ্য পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাদের কেউ না কেউ প্রতিনিয়তই হচ্ছি। কেন হচ্ছি? ঘটনার প্রেক্ষাপট ২ টি ভিন্ন, হলেও এর পেছনের কারণ কিন্তু একটাই – রাগ! হ্যাঁ, এটাই বর্তমান সময়ের সকল হিংসা-হানাহানি ও ধ্বংসের মূল কারণ। একটু চিন্তা করে দেখুন, কথাটা কি খুব একটা ভুল বললাম?

 

না, মোটেও ভুল নয়-কারণ রাগান্বিত অবস্থায় মানুষের বিবেচনা শক্তি তথা বিবেক দুর্বল হয়ে যায়,আর বিবেক দুর্বল হওয়া মানেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলা। তখন আমরা অন্যের ক্ষতি করার জন্য উন্মাদ হয়ে যাই,আর বলাই বাহুল্য এর পরিনতিতে নিজেদের ক্ষতিই হয় সবথেকে বেশি।

 

আচ্ছা,আপনি কি রাগকে কোনো মানসিক অসুখ মনে করেন? তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন, এটি মানুষের ষড়রিপুর অন্যতম একটি রিপু মাত্র। রাগ সহনীয় মাত্রায় থাকলে তা মানুষের মনের অস্তিত্বকেই জানান দেয় কিন্তু এর স্বাভাবিক মাত্রা অতিক্রম করলেই মানুষের মন আর পশুর মনের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যায় খুব কম।

 

বর্তমানে ফেসবুক বাবহারকারিদের মধ্যে রাগারাগি জনিত সমস্যা আরও প্রবল, কারণ এ ক্ষেত্রে আমরা কথোপকথনের সময় একজন আরেকজনের মুখের অভিব্যক্তি দেখার সুযোগ পাই না, তাই কখনো কখনো কারো কথার প্রকৃত ভাবার্থ প্রকাশিত হয় বিপরিত দৃষ্টিভঙ্গিতে, ফলে সহজেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

 

রাগ ব্যাপারটা ২ ধরণের হতে পারে-
(১) দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক রাগারাগি
(২) শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির ওপর আরেকজনের রাগ।

 

উভয় প্রকার রাগই যথেষ্ট ক্ষয়-ক্ষতি ডেকে আনতে পারে, কিন্তু ২য় প্রকার রাগটি তুলনামুলক ভাবে বেশি ভয়ানক। কারণ পারস্পরিক রাগারাগি-ঝগড়াঝাঁটির মধ্য দিয়ে কখনো কখনো প্রকৃত তথ্য টি বেরিয়ে আসে এবং মিমাংসা সম্ভব হয়।

 

কিন্তু আরেকজনের জন্য মনের ভেতর রাগ পুষে রাখা এবং ব্যাপারটা তাকে জানতে না দিয়ে অন্তরে বাহিরে জ্বলে পুরে ছাড়-খাঁর হওয়ার মতো খারাপ কিছু আর কিছু হতে পারে না। তখন সমঝোতা তো সম্ভব হয় ই না বরং ভুল বোঝাবুঝির মাত্রা দিন কে দিন বাড়তেই থাকে এবং এক পর্যায়ে রাগে অস্থির হয়ে আমরা প্রতিশোধ স্পৃহায় জীবন হানি ঘটাতেও পিছ পা হই না। তাই মাত্রাতিরিক্ত রাগ নিয়ন্ত্রনের কোনো বিকল্প নেই।

 

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক রাগ নিয়ন্ত্রনের কিছু পরীক্ষিত উপায়। রাগ পেলে কি করবেন?

 

★ রাগ নিয়ন্ত্রণে সবার প্রথমেই আপনাকে যা করতে হবে তা হলো সাধারণভাবে স্বীকারকরা যে, আপনি রেগে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে আমরা রেগে যেতেই পারি; কিন্তু যত তাড়াতাড়ি এটা স্বীকার করে নেব তত সহজে এ থেকে সৃষ্ট জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে এবং নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এনে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা সহজ হবে। তাই রেগে আছেন – এটা মেনে নিয়ে পরবর্তী ধাপে যান।

★ মনে করুন কারও কথায় বা কাজে প্রচন্ড রেগে গেছেন, এবং তাকে আপনার কথার ঝড়ে ধুঁয়ে দেওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছেন, এক্ষুনি চরম বিস্ফোরণ ঘটাবেন….……..দাড়ান, দাড়ান! আচ্ছা নিজেকে কয়েকটা প্রশ্ন করে নিন তো,

(i) ওকে গালা-গালি করলে কি আপনার টাকা-পয়সা পাবার সম্ভাবনা আছে? উত্তর-হ্যা/না
(ii) ওকে গালি দিলে অন্য সকলের সামনে আপনার সম্মান কি খুব বেড়ে যাবে? উত্তর-হ্যা/না
(iii) ওকে বাজে ভাষায় মূল্যায়ন করলে সে কি চুপ করে থাকবে? নাকি সকলের সামনে আপনাকেও অপমান জনক ভাষায় প্রতি উত্তর করার সম্ভাবনা রয়েছে? উত্তর-হ্যা/না
(iv) তাকে ছোটো করলে কি সে এক বাক্যে আপনার অমৃত বাণী মেনে নিয়ে আপনার কথামত কাজ করবে? করলেও কি খুব খুশি মনে করবে? উত্তর-হ্যা/না।
(v) তার গায়ে হাত তুললে কি সে ভবিষ্যতে সূযোগ পেলে আপনার উপর পাল্টা প্রতিশোধ নিতে পারে? কথায় বা কাজে বিশ্বাসঘাতকতা করে কিংবা সরাররি আপনাকে………….………………নাই বা বললাম। উত্তর-হ্যা/না২য় ব্যক্তির সাথে আপনার সম্পর্কের ভিত্তিতে উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। এবার একটু ভাবুন তো- ঐ একই পরিস্থিতিতে তাকে অপমানসুচক কথা না বলে সুন্দর ভাবে এবং বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তিতে বুঝিয়ে বললে সে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে? এবং তখন সকলের সামনে আপনার সম্মানটাও কি স্থিতি অবস্থায় থাকে না? উত্তর আপানার কাছেই জমা রইলো।

★ অনেক সময় এমনটা ঘটে – একজন আপনার নামে অনবরত অপবাদ দিয়ে যাচ্ছে, যে আপনি খারাপ মানুষ, বাজে কথা বলেন, বাজে কাজ করেন….ইত্যাদি ইত্যাদি। এ সময় কিন্তু চুপ করে থাকা মানে শান্তি প্রিয়তা নয় বরং এতে সবাই ভাববে আপনি তার কথাগুলো মেনে নিচ্ছেন। আবার, এই পরিস্থিতিতে আপনি যদি গালি-গালাজ করে তার কথার প্রতিবাদ জানান তাহলে এক ভাবে কি আপনি তার অপবাদগুলোকেই সত্যতার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না?

 

সুতরাং, এরকম অবস্থায় আপনাকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে-
(i) প্রথমত, আপনার মুখে রাগের চিহ্ন আনাই যাবে না, এতে অপবাদকারী ব্যক্তিটি উৎসাহিত হয়।
(ii) খুবই পিকুলিয়ার ভঙ্গিতে হাসি হাসি মুখ করে থাকবেন, যেন আপনি তার প্রতিটা কথায় চরম মজা পাচ্ছেন। এতে ব্যক্তিটি বিরক্তি বোধ করবে।
(iii) তার কথার মাঝে হাই তুলতে পারেন, অন্য দিকে তাকিয়ে নাক চুলকাতে পারেন – এগুলো সবই তার কথার অর্থহীনতা কে পরোক্ষ স্বীকৃতি দেবে।
(iv) তার কথার মাঝে হুট করে বাঁধা দেবেন না বা কথা বলে উঠবেন না, তার কথার পুরো একটি অংশ বলা শেষ হলে প্রশ্ন করুন – “জ্বি ভাই, আপনার কি বলা শেষ হয়েছে?” উত্তরে যদি সে ‘না’ বলে তবে তাকে পুনরায় বলার সুযোগ দিন। বলা শেষ হলেই কেবল আপনি বিনয় সহকারে জানতে চান – “কিছু মনে না করলে এবার আমি ২-১টি কথা বলি?” তখন আপনি অল্প কিছু কথায় তার কথা গুলোর অসত্যতা পরিষ্কার করবেন, কিন্তু কোনোভাবেই তার চারিত্রিক দোষ ত্রুটির কথা উল্লেখ করবেন না, যেন সে আপনাকে পুনরায় অপমান করার সূযোগ না পায়। এতে আপনার বিজ্ঞতাই প্রকাশ পাবে।

★ নিজের সাথে পজেটিভ কথা বলার অভ্যাস করুন। কারো কথায় বা কাজে রাগান্বিত হলে মনে মনে কয়েকটা বাক্য বিড়বিড় করলে বেশ স্বস্তি পাওয়া যায়। যেমন-“শান্ত হও” “সব ঠিক আছে” “All is Well” ইত্যাদি। এ ধরনের কথা গুলো মনকে দৃঢ় করার জন্য বার বার বলতে হবে এবং বাক-বিতণ্ডা এরিয়ে শান্তিপূর্ন উপায়গুলো বের করবার লক্ষে চিন্তা করে যেতে হবে।

★ রাগ প্রচন্ড বেড়ে গেলে ঐ স্থান ত্যাগ করতে পারেন, অন্য ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে নিজেকে কিছুক্ষন চিন্তা করার সুযোগ দিতে হবে। সব থেকে ভালো হবে পানির ট্যাপ টি ছেড়ে দিয়ে এক দৃষ্টিতে সেদিকে কিছুখন তাকিয়ে থাকতে পাড়লে। এতে মন টাকে শান্ত করে চিন্তা ভাবনা গুলোকে বেশ গুছিয়ে আনা যায়।

★ এ সময় যতটা পারা যায় লম্বা করে বুক ভরে শ্বাস নিতে হয়। অক্সিজেন ব্রেইনে প্রবেশ করলেই চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এটিও আপনাকে শান্ত থাকতে বেশ সাহায্য করবে।

★ যদি পারেন যার কারনে আপনার ব্রহ্মতালুতে আগুন জলছে তাকে ক্ষমা করে দিন। এটা আপনার এবং তার দুজনের জন্যেই ভাল ফল নিয়ে আসবে। একদিন ঝগড়া করে আরেকদিন ক্ষমা করে দেখুন তো কোনটি আপনাকে বেশি মানসিক প্রশান্তি দেয়।

★ রাগ কমানোর সব থেকে স্বাভাবিক ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উপায় হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম করা। এই ব্যায়াম হতে পারে কোন শারীরিক ব্যায়াম কিংবা যোগ-ব্যায়াম। শারীরিক ব্যায়ামের ফলে মস্তিস্কে সেরেটেনিন ও এন্ডরফিন নামক দুটি হরমোন নিঃসরণ হয় যা সুখের অনুভুতির সৃষ্টি করে। আর ডাক্তাররা রাগ নিয়ন্ত্রনের রোগীদের সকালে উঠে (পারলে খাটে বসেই) কিছুক্ষণ যোগ ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ সময় দু চোখ বন্ধ করে নিজেকে নিয়ে ভাবতে হবে এবং সহনশক্তি বৃদ্ধির দৃঢ় প্রত্যয় নিতে হবে।

 

রাগ পেলে কি করবেন না:

 

★ রাগ মনের ভেতর পুষে রাখবেন না; কখনোই না,কোনভাবেই না। আমার সবগুলো সাজেশনের ভেতর এই বিষয়টি সব থেকে গুরুত্ব দিয়ে আবারও বলছি-রাগকে লুকিয়ে রাখবেন না। এর পরিণতি যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। যেভাবে হোক রাগকে কমিয়ে আনুন এবং এর পেছনের কারণ টা খুজে বের করবার চেষ্টা করুন।

(i) ৩য় কোনো পক্ষের কথায় আপনার প্রিয়জনটিকে ভুল বুঝে বসে থাকবেন না। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করুন এবং সরাসরি বা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তার সাথে ব্যাপার টি নিয়ে আলোচনা করুন।
(ii) দ্রুত কথা বলবেন না। রাগান্বিত অবস্থায় আমাদের কথা ও কাজ বৈজ্ঞানিক কারণেই অগোছালো হবে, ফলে না চাইতেও আমরা উল্টাপাল্টা অনেক কিছুই বলে ফেলি যা পরবর্তীতে আমাদের ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। প্রচুর সময় নিয়ে ভেবে চিনতে প্রতিটা কথা বা কাজে হাত দেবেন, নিজেকে সময় দিতে হবে শান্ত হওয়ার জন্য।
(iii) অনেকে রাগের বিষয়টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবার পরামর্শ দেয়। আমি এক্ষেত্রে বলব, অত্যন্ত বিশ্বস্ত কেউ ছাড়া অন্য কারও কাছে বিষয়টি শেয়ার না করাই ভাল। কারণ, হয়ত তার আক্রমনাত্মক পরামর্শ আপনাকে আরও হিংস্র করে তুলতে পারে রাগের উৎস-ব্যক্তিটির প্রতি।
(iv) বাসার কাজের লোক, রিকশাওয়ালা এদের সাথে দয়া করে অন্তত খারাপ ব্যবহার করবেন না। একবার ভেবে দেখুন এদের জীবনে আপনার অর্ধেক শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ ও হয় নি। তাহলে এসব অশিক্ষিত বা সল্প-শিক্ষিত মানুষের থেকে কিভাবে আপনি আপনার মন মতো ব্যবহার আশা করেন? বরং তাদের সাথে অযথা বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে আপনি কি নিজেকেই তাদের পর্যায়ে নামিয়ে আনছেন না? তাদেরকে সম্মান করতে না পারলেও অন্তত অসম্মান করবেন না; কথা দিলাম – এতে আপনি ই লাভবান হবেন।
(v) এটি আমার সর্ব শেষ পরামর্শ – যদি উপরের কোনো সাজেশনেই আপনার রাগ কমানো না যায়, ২য় ব্যক্তিটিকে একটা মোক্ষম ঝাড়ি দেওয়া যদি ফরয(!) কাজ বলে মনে করেন-তাহলে অন্তত তাকে সকললের সামনে অপমান না করে আড়ালে কোনো জায়গায় নিয়ে (ফেসবুকের ক্ষেত্রে ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে) ব্যাক্তিগত ভাবে সমালোচনা করুন, তবে সেটাও গঠনমূলক ভাবে করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। আশা করি, মানুষটি এ কাজের উদ্দেশ্য বুঝতে পারলে আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়বে, বৈ কমবে না।

 

অনেক কিছুই লিখলাম তবে সব কথার মূলে যেটা রয়েছে তা হল-রাগ নিয়ন্ত্রণে ধৈর্য্য এবং সহনশীলতা অপরিহার্য। আপনার মতের সাথে সবসময় সবার মতে মিল থাকবে এতটা আশা করা নিশ্চয়ই ঠিক নয়। আবার আপনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি বলে যে কেউ আপনার সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবে না এটা মনে করাও বোকামি। তাই বাজে পরিস্থিতির জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকুন।

 

রাগ তো সবাই করে, এটাই সাধারণের প্রবৃত্তি। একটু ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে আপনিই হয়ে উঠতে পারেন উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করবার মহা মুল্যবান ক্ষমতা দান করুন এই কামনায় আমার লেখার এখানেই ইতি টানছি। সবাইকে কষ্ট করে লেখাটি পড়বার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

 

লিখেছেনঃ রাফি উর রশিদ

Abu Hasan Rumi
আমি আবু হাসান রুমি এবং আমি একজন টপ রেটেড এডমিন সাপোরটার এবং একজন ডিজিটাল মার্কেটার যে প্রতিনিয়তই তার কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টায় আছে। আমার সকল চিন্তা-ভাবনা এবং আগ্রহকে সকলের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ ব্লগটি চালু করা।
Posts created 11

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top